নিউ ইয়র্ক, ১১ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তাবিত শুল্ক এড়াতে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ আইফোন এয়ার কার্গোর মাধ্যমে পাঠাচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ভারতীয় উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন আইফোন—প্রায় ১৫ লাখ ইউনিট—যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। ভারতের চেন্নাই থেকে চালানগুলো দ্রুত প্রসেসিংয়ের জন্য চালু করা হয়েছে ‘গ্রিন করিডোর’ ব্যবস্থা, যা কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সময় ৩০ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৬ ঘণ্টায় নামিয়ে এনেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যে ২৬% শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রয়েছে। তবে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১২৫% শুল্ক ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, অ্যাপলের বেশিরভাগ আইফোন চীনে অ্যাসেম্বল হয়।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই শুল্ক কার্যকর থাকলে আইফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। ইউবিএস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, ২৫৬ জিবি আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের দাম ১,১৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ২,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে—যা ৬০% বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, অ্যাপল ভারতে আইফোন উৎপাদন ২০% বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফক্সকনের চেন্নাই কারখানায় কর্মী সংখ্যা বাড়ানো ও অতিরিক্ত শিফট চালুর মাধ্যমে এ লক্ষ্যে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছর চেন্নাই কারখানায় উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ২ কোটি আইফোন, যার মধ্যে সর্বশেষ আইফোন ১৫ ও ১৬ মডেল রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে অ্যাপল ‘অস্থায়ী সমাধান’ হিসেবে ভারতে তৈরি আরও আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে চায়। ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষক ওয়ামসি মোহনের মতে, যদি অ্যাপল ভারতের উৎপাদন পুরোপুরি ব্যবহার করে, তবে তা মার্কিন বাজারের ৫০% চাহিদা মেটাতে পারবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন উৎপাদন স্থানান্তর ব্যয়বহুল হবে। এতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও বছরের পর বছর সময় লাগবে। ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেন, “যদি আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়, তাহলে এর দাম বেড়ে ৩৫০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।”
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘লিবারেশন ডে’ ভাষণে দাবি করেন, তার শুল্ক নীতি দেশের চাকরি বাজার ও উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করবে। তবে অনেক বিশ্লেষক এটিকে ‘অর্থনৈতিক কাল্পনিক কাহিনি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এশিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম ও উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। আইভস বলেন, “এটি শুধু একটি স্বপ্ন, বাস্তবে রূপায়ন করা প্রায় অসম্ভব।”
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন