চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তনে অংশ নিতে চূড়ান্তভাবে আবেদন করেছে ২২ হাজার ৫৯৭ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ আট বছর পর আগামী ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ মহা আয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, এবারের সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করা হবে। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়াহ্ইয়া আখতার।
অধ্যাপক পাটওয়ারী আরও জানান, সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ফ্যাকাল্টি প্রাঙ্গণে বসার বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিচ্ছেন। এটিই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমাবর্তন হতে যাচ্ছে। এমনকি দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় সমাবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
সমাবর্তনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৫ মার্চ। প্রথম দফায় আবেদন শেষ হয় ৩০ মার্চ। তবে মূল সনদপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শুরুতে অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ঈদের ছুটি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে, প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তন হয় ১৯৯৯ সালে, তৃতীয় ২০০৮ সালে এবং সর্বশেষ চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি।
এবারের সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন