ব্রেকিং নিউজ

ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের নির্দেশ, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবাদ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল ২০২৫

ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জেরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার উপস্থিতি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিগত স্বার্থের পরিপন্থী’।

৩০ বছর বয়সী মাহমুদ খলিল আমেরিকার গ্রিন কার্ডধারী এবং এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধ ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান গ্রহণ করে তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।

আটক ও বিচারপ্রক্রিয়া
বিক্ষোভে অংশগ্রহণের কারণে মাসখানেক আগে তাকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে তিনি লুইজিয়ানা রাজ্যের একটি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন। পুরনো এক অভিবাসন আইন ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়—যেটি স্নায়ুযুদ্ধের সময় তৈরি হয়েছিল।

আইনজীবীদের মতে, মাহমুদের বিরুদ্ধে যে নথি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ছিল খুবই সীমিত। প্রমাণ হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি চিঠি ছাড়া তেমন কিছু ছিল না। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ইহুদি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি।

প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) একে ‘পূর্বনির্ধারিত রায়’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, মাহমুদ খলিল কোনো অপরাধ করেননি—তাকে শুধুমাত্র মতপ্রকাশের কারণে টার্গেট করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মাহমুদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ, মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন একাধিক ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা।

আপিল ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
আদালত মাহমুদের আইনজীবীদেরকে আপিলের জন্য ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। পাশাপাশি মাহমুদ নিউ জার্সির একটি ফেডারেল আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে তিনি নিজের গ্রেফতারকে ‘সংবিধানবিরোধী’ বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

যদি সেই মামলায় তিনি জয়লাভ করেন, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা স্থগিত হতে পারে।

এ ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অভিবাসীদের হয়রানির প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

Choose Your Language