আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল ২০২৫
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর গাজায় নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৫০০ শিশু। শনিবার এমন তথ্য জানিয়েছেন গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল। মোট নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১,৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২০ জন। শনিবার একদিনেই বিভিন্ন স্থানে হামলায় নিহত হয়েছেন ছয়জন, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া হামলা
-
তুফ্ফাহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন, আহত হয়েছেন দুই শিশু।
-
বেইত লাহিয়ার আল-আতাতরা এলাকায় প্রাণ গেছে আরও দুইজনের।
-
খান ইউনুসের কিজান আন-নাজ্জার এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন একজন।
-
দেইর আল-বালাহর আল-আহলি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত এক নবজাতকের হাত কেটে ফেলতে হয়, পরে তার মৃত্যু ঘটে।
এছাড়া, ইসরায়েল ঘোষিত তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ আল-মাওয়াসি এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের তাবুতে চালানো হয় ভয়াবহ হামলা, যাতে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও মানবিক সংকট
আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খোদারির বরাতে জানা যায়, শনিবার শুজাইয়া ও খান ইউনুস এলাকায় নতুন করে জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
তীব্র ও ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটে ভুগছে গাজার নারী ও শিশুরা। চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে আহতদের অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না, যার ফলে মৃত্যুর হার বাড়ছে।
জাতিসংঘের উদ্বেগ
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জানান, গত ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের নথিভুক্ত ২২৪টি হামলার মধ্যে ৩৬টি হামলায় শুধুই নারী ও শিশুরা নিহত হয়েছেন।
এই অব্যাহত আগ্রাসনে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
গাজার পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, আর বেসামরিক মানুষের দুর্দশা—বিশেষ করে শিশুদের দুর্ভোগ—পৌঁছেছে চরমে। আন্তর্জাতিক সমাজের এখন জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মানবিক বিপর্যয় থেকে উত্তরণ অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন