আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ এপ্রিল ২০২৫
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাবা-ছেলে—হরগোবিন্দ দাস (৭৪) ও চন্দন দাস (৪০), যাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে জেলার শামসেরগঞ্জের বাড়ি থেকে। এছাড়া, গতকাল সুতির সাজুর মোড়ে গুলিবিদ্ধ এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
সহিংসতার রূপ নিল আন্দোলন
জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধরা জাতীয় সড়ক-১২ অবরোধ করে রাখে, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ি, প্রাইভেটকার, যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও এমনকি অ্যাম্বুলেন্সেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
সুতি ও জঙ্গিপুর অঞ্চলে সহিংসতার মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা পেট্রোল বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। লুটপাট চালানো হয় দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে। একটি বেসরকারি হাসপাতালেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা
রাজ্যের পুলিশের মহাপরিচালক রাজীব কুমার শনিবার সাংবাদিকদের জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জাতি-ধর্ম দেখে কাজ করবে না।”
ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় সিভি আনন্দ বোসের নির্দেশে বিএসএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
গোলাগুলিতে আহত শিশু, থমকে রেল যোগাযোগ
শুক্রবারের সহিংসতার মধ্যে পড়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মোশারফ হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। তার বাবা জানিয়েছেন, ছেলে রাস্তায় জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে পরে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, পূর্ব রেল সূত্রে জানা যায়, ট্র্যাক অবরোধের কারণে ধুলিয়ানগঙ্গা ও নিমতিতা স্টেশনের মাঝে অন্তত পাঁচটি ট্রেন আটকে পড়ে।
মৃত্যু ও গ্রেফতার
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক রাজর্ষি মিত্র বলেছেন, “পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত বাহিনী নামানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।”
পটভূমি
ওয়াকফ সংশোধনী আইন ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধীরা বলছে, এই আইনের মাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জমিজমা ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই আইনবিরোধী আন্দোলন শুধুই পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভারতের অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
সাম্প্রতিক এই সহিংসতা ভারতের ধর্মীয় রাজনীতি ও সামাজিক ভারসাম্যে আরও উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন