ব্রেকিং নিউজ

মান্ডা খাল পুনরুদ্ধারে ধীরগতি, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী পুনর্মূল্যায়ন হচ্ছে ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প, বাদ পড়ছে ‘অপ্রয়োজনীয়’ অবকাঠামো



ঢাকা, ১১ এপ্রিল:

রাজধানীর মুগদার মানিকনগর এলাকায় অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন রহমত উল্লাহ। একসময় এলাকাবাসীর জন্য যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল মান্ডা খাল। এখন সেটিই পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ সমস্যায়। ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া খাল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, মশার উপদ্রব তো রয়েছেই।

মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খাল পুনরুদ্ধার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২০ সালে গৃহীত হয় প্রায় ৮৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। তবে খাল রক্ষা ছাড়াও এতে যুক্ত করা হয় সেতু, ফুডকোর্ট, টয়লেট ও বৈদ্যুতিক খুঁটির মতো বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া জানান, প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামোগুলো বাদ দিয়ে প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থও বিবেচনায় রাখা হবে এবং বিকল্প জায়গায় তাদের স্থানান্তর করা হবে।”

প্রকল্পের মূল নকশায় পানি আইন অনুযায়ী খালের দুই পাড় থেকে ৩০ ফুট পর্যন্ত উচ্ছেদের পরিকল্পনা থাকলেও, পুনর্মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সিএস (Cadastral Survey) রেকর্ড অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বহুতল ভবন মালিকদের পুনর্বাসনের বাস্তব অসুবিধা।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, “সিএস রেকর্ড অনুযায়ী খাল উদ্ধারে সমস্যা নেই, তবে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। রাষ্ট্র যদি দখলদারদের স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য খালও রক্ষা করা কঠিন হবে।”

তিনি আরও বলেন, “খালের মধ্যে কেন এত ফুডকোর্ট, এত অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে? এসবের বেশিরভাগই অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে। বরং প্রকল্পে যত্রতত্র নির্মাণ বাদ দিয়ে খাল উদ্ধারেই মনোযোগ দিতে হবে।”

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের অজুহাতে খাল পরিষ্কারের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আরও সংকট তৈরি হয়েছে। খালের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও বাস্তবতা নিশ্চিত না হলে খাল পুনরুদ্ধার শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন

Choose Your Language