তেহরান, ৬ এপ্রিল ২০২৫ — ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সরাসরি আলোচনা কোনো অর্থ বহন করে না। স্থানীয় সময় রোববার এক বিবৃতিতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “আলোচনার নামে হুমকি কোনো গ্রহণযোগ্য কূটনৈতিক আচরণ নয়।”
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চুক্তি না হলে ইরানে বোমা হামলা হবে।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আরাঘচি প্রশ্ন তোলেন, “যদি সত্যিই আলোচনার ইচ্ছা থাকে, তবে হুমকি দেওয়ার মানে কী?”
ইরান বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়ে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
আরাঘচি বলেন, “আলোচনার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তরিকতা। এক হাতে গুলি, আরেক হাতে আলোচনার প্রস্তাব — এটি কূটনৈতিক দ্বিচারিতা।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে, যেখানে পারমাণবিক ইস্যু আরও জটিলতা তৈরি করছে। এই অবস্থায় ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন