কুড়িগ্রাম, ১০ এপ্রিল:
তিস্তা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে ঈদের পর ঘুরতে যাওয়া এক মা-মেয়েকে উত্ত্যক্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুই গ্রামের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নদী পাড়ের দক্ষিণ খরখরিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামবাসী। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আলমগীর হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে প্রথমে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৪ এপ্রিল, যখন চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের এক মা ও মেয়ে নির্মাণাধীন সেতু এলাকায় ঘুরতে গেলে গাইবান্ধার হরিপুর ইউনিয়নের তিন যুবক—বিজয়, পাভেল ও সুমন—তাদের গোপনে ছবি তোলে ও উত্ত্যক্ত করে। প্রতিবাদ করলে মা-মেয়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়।
এ ঘটনার সময় উপস্থিত দুই তরুণ—সাজু ও মোতালেব—প্রতিবাদ জানালে তারাও হামলার শিকার হন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও উত্তেজনা ছড়ায়, যখন দক্ষিণ খরখরিয়ার আলমগীর হোসেন ভুট্টাক্ষেতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানান, তাকে বেধড়ক মারধরের ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে ও পাঁচটি দাঁত ভেঙে যায়।
ঘটনার পর দুই গ্রামে মাইকিং করে সংঘর্ষে অংশ নিতে লোকজন জড়ো করা হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম জানান, দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. সাফায়তে হোসেন বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে বোঝানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ জানান, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সম্মত হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকায় স্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন