ঢাকা, ১ মে ২০২৫ (বৃহস্পতিবার)
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক করিডর দেয়ার বিষয়ে সরকার কোনো রাজনৈতিক দল বা জনগণকে অবহিত করেনি। এই সিদ্ধান্ত জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী নির্বাচিত সংসদ থেকেই আসা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় শ্রমিকদলের এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “বিদেশীদের চাপে নয়, সরকারের দায়িত্ব সবার আগে দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। করিডরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।”
দেশে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “সংস্কার নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বর সে আলোচনায় অনুপস্থিত। রাষ্ট্রে সবার মতামত তুলে ধরার জন্য একটি নির্বাচিত, জবাবদিহিমূলক সরকার প্রয়োজন, যারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত।”
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ নির্বাচন ও সংস্কারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারেক রহমানের মতে, “সংস্কার এবং নির্বাচন—উভয়ই একসঙ্গে প্রয়োজন। একটি ছাড়াও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “একটি সরকার যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন অবস্থায় থাকে, তবে তা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিতে পারে। ফ্যাসিবাদ রুখতে হলে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা জরুরি। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা লাভের আকাঙ্ক্ষা যেন গণতন্ত্র ধ্বংস না করে।”
শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের ১৮ কোটির জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় আট কোটিই শ্রমজীবী। তারাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের অধিকার নিশ্চিত না করে, উন্নয়ন কিংবা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।”
তিনি শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “শ্রমিকদের অবহেলা করলে শুধু অর্থনীতি নয়, গণতন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়ে।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তারেক রহমান সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং একটি জবাবদিহিমূলক নির্বাচিত সরকারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন